সূচিপত্র
- গুগল ডিসকভার আসলে কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
- ২০২৬ সালে গুগল ডিসকভার এলগরিদমের পরিবর্তন
- গুগল ডিসকভার ট্রাফিক পাওয়ার মূল কৌশলসমূহ
- কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন এবং এসইও স্ট্র্যাটেজি
- গুগল ওয়েব স্টোরিজ (Web Stories) এর ব্যবহার
- টেকনিক্যাল এসইও এবং গুগল নিউজ এপ্রুভাল
- ডিসকভার অপ্টিমাইজেশনের চেকলিস্ট
- কি কি কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন
- সোশ্যাল সিগন্যাল এবং ইউজার এনগেজমেন্ট
- উপসংহার
- সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ব্লগিং বা কনটেন্ট রাইটিং এর জগতে ট্রাফিক হলো অক্সিজেনের মতো। একটা সময় ছিল যখন আমরা শুধুমাত্র গুগল সার্চ বা সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করতাম। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে খেলার নিয়ম পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন স্মার্ট ব্লগারদের প্রথম লক্ষ্য থাকে Google Discover Traffic। আপনি কি জানেন, শুধুমাত্র ডিসকভার ফিড থেকে একটা সাধারণ ব্লগ সাইটে মাসে ১ মিলিয়নেরও বেশি অর্গানিক ট্রাফিক আনা সম্ভব? তবে এর জন্য আপনাকে জানতে হবে সঠিক কৌশল এবং গুগলের লেটেস্ট আপডেট সম্পর্কে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি আপনার নতুন বা পুরাতন ওয়েবসাইটকে গুগল ডিসকভারের উপযোগী করে তুলবেন এবং ২০২৬ সালের নতুন এলগরিদম অনুযায়ী প্রচুর ভিজিটর পাবেন। এই গাইডলাইনটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং গুগলের অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
গুগল ডিসকভার আসলে কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সহজ কথায় বলতে গেলে, গুগল ডিসকভার হলো একটি কুয়েরি-লেস সার্চ এক্সপেরিয়েন্স। অর্থাৎ, ইউজার কিছু সার্চ না করলেও তার ইন্টারেস্ট বা পছন্দ অনুযায়ী গুগল তাকে কন্টেন্ট দেখায়। আপনি যখন মোবাইলে গুগল অ্যাপ ওপেন করেন বা ক্রোম ব্রাউজারে যান, তখন সার্চ বারের নিচে যে নিউজ বা আর্টিকেলের ফিড দেখতে পান, সেটাই হলো গুগল ডিসকভার।
২০২৬ সালে এটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রধান কারণ হলো ইউজার বিহেভিয়ার বা ব্যবহারকারীদের আচরণের পরিবর্তন। এখন মানুষ সার্চ করে তথ্য খোঁজার চেয়ে তাদের পছন্দের বিষয়গুলো অটোমেটিক ফিডে দেখতে বেশি পছন্দ করে। এসইও এর ভাষায় একে বলা হয় “Queryless Search”। এখানে ট্রাফিক পাওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ সার্চ রেজাল্টের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। কারণ এখানে গুগল নিজেই আপনার কন্টেন্ট ইউজারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তাই আপনি যদি সঠিকভাবে Google Discover Optimization করতে পারেন, তবে আপনার সাইটের ট্রাফিক রাতারাতি বেড়ে যেতে পারে। এটি শুধুমাত্র নিউজ সাইটের জন্য নয়, বরং যে কোনো ভালো মানের ব্লগের জন্য উন্মুক্ত।
২০২৬ সালে গুগল ডিসকভার এলগরিদমের পরিবর্তন
গুগল প্রতি বছর তাদের এলগরিদমে পরিবর্তন আনে। ২০২৬ সালে গুগল ডিসকভারের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে E-E-A-T (Experience, Expertise, Authoritativeness, and Trustworthiness) এবং Helpful Content System-এর ওপর। আগে শুধুমাত্র ক্লিকবেট টাইটেল দিয়ে ডিসকভারে যাওয়া যেত, কিন্তু এখন গুগল অনেক বেশি স্মার্ট।
আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন!
সেরা কন্টেন্ট রাইটিং টিপস এবং আপডেট পেতে আমাদের কমিউনিটিতে যোগ দিন।
জয়েন করুনগুগল এখন দেখে আপনার সাইটের কন্টেন্ট ইউজারের জন্য আসলেই ভ্যালু বা মূল্য তৈরি করছে কিনা। আপনার লেখার মধ্যে যদি নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং গভীরতা থাকে, তবে গুগল সেটাকে ডিসকভারে প্রাধান্য দেয়। এছাড়া সাইটের টেকনিক্যাল পারফরম্যান্স এবং ইউজার এনগেজমেন্ট সিগন্যাল এখন অনেক বড় ফ্যাক্টর। যদি কেউ আপনার আর্টিকেলে ক্লিক করে এবং সাথে সাথে বেরিয়ে যায় (High Bounce Rate), তবে গুগল বুঝবে আপনার কন্টেন্ট ভালো না। তাই এখন শুধুমাত্র ক্লিকের দিকে নজর না দিয়ে ইউজারের পড়ার অভিজ্ঞতার দিকে নজর দিতে হবে। এলগরিদম এখন ফ্রেশ কন্টেন্টের পাশাপাশি এভারগ্রিন কন্টেন্টকেও ডিসকভারে সুযোগ দিচ্ছে, যদি সেটি ইউজারের ইন্টারেস্টের সাথে মিলে যায়।
গুগল ডিসকভার ট্রাফিক পাওয়ার মূল কৌশলসমূহ
গুগল ডিসকভারে স্থান পাওয়ার জন্য কোনো জাদুকরী বোতাম নেই, তবে কিছু নির্দিষ্ট প্রসেস আছে যা মেনে চললে সাফল্য আসবেই। নিচে আমরা ধাপে ধাপে সেই বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করছি।
হাই কোয়ালিটি এবং ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি
গুগল ডিসকভারের মূল মন্ত্র হলো কন্টেন্ট। কিন্তু যে কোনো কন্টেন্ট লিখলেই হবে না। আপনাকে এমন বিষয়ে লিখতে হবে যা বর্তমান সময়ে মানুষ জানতে আগ্রহী। কপি-পেস্ট করা লেখা বা এআই দিয়ে জেনারেট করা লো-কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিয়ে ২০২৬ সালে ডিসকভারে যাওয়া অসম্ভব। আপনার লেখার মধ্যে ইমোশন এবং তথ্যের সঠিক সংমিশ্রণ থাকতে হবে।
লেখার ভাষা হতে হবে সহজ এবং সাবলীল। এমনভাবে লিখতে হবে যেন মনে হয় আপনি পাঠকের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। লেখার মধ্যে ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করবেন। একঘেয়েমি দূর করার জন্য পয়েন্ট এবং বুলেট লিস্ট ব্যবহার করা জরুরি। মনে রাখবেন, গুগল ডিসকভার ফ্রেশ কন্টেন্ট পছন্দ করে। তাই পুরাতন টপিকের চেয়ে নতুন এবং ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে কাজ করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য দিলে গুগল আপনার সাইটকে পেনাল্টি দিতে পারে।
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ডিজাইন
গুগল ডিসকভার সম্পূর্ণভাবে মোবাইল ভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম। তাই আপনার ওয়েবসাইট যদি মোবাইল ফ্রেন্ডলি না হয়, তবে আপনি ডিসকভার থেকে এক ফোঁটাও ট্রাফিক পাবেন না। ২০২৬ সালে Core Web Vitals একটি র্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
আপনার ওয়েবসাইট লোড হতে যেন ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় না নেয়। ফন্ট সাইজ এমন হতে হবে যেন মোবাইলে পড়তে কোনো অসুবিধা না হয়। পপ-আপ অ্যাড বা ইন্টারসিশিয়াল অ্যাড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স নষ্ট করে এবং গুগল এগুলোকে নেতিবাচকভাবে দেখে। AMP (Accelerated Mobile Pages) ব্যবহার করা এখন বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি সাইটের স্পিড বাড়াতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে ডিসকভারে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। ওয়েবসাইটের নেভিগেশন হতে হবে সহজ যাতে ইউজার এক পেজ থেকে অন্য পেজে সহজে যেতে পারে।
হাই রেজোলিউশন এবং কাস্টম থাম্বনেইল ব্যবহার
ডিসকভারে ইউজারের নজর কাড়ার প্রথম মাধ্যম হলো আপনার আর্টিকেলের থাম্বনেইল বা ফিচার ইমেজ। গুগল স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, ডিসকভারের জন্য ইমেজের প্রস্থ বা width অন্তত ১২০০ পিক্সেল হতে হবে। এবং ইমেজের aspect ratio ১৬:৯ রাখা ভালো।
ঝাপসা বা লো-কোয়ালিটি ইমেজ ব্যবহার করবেন না। ইমেজের মধ্যে খুব বেশি টেক্সট বা লেখা ব্যবহার করা উচিত নয়। ইমেজটি এমন হতে হবে যা দেখে ইউজার কৌতূহলী হয়। তবে মিসলিডিং বা ভুল তথ্য দেয় এমন ইমেজ ব্যবহার করলে গুগল আপনার সাইটকে পেনাল্টি দিতে পারে। ইমেজের ফাইল নেম এবং Alt Tag-এ ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এটি Image SEO এর জন্য অত্যন্ত জরুরি। গুগলের মতে, বড় ছবি ব্যবহার করলে ডিসকভার থেকে ক্লিক রেট (CTR) ৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন এবং এসইও স্ট্র্যাটেজি
কন্টেন্ট লেখার সময় সঠিক SEO Strategy ফলো করা খুব জরুরি। যদিও ডিসকভারের জন্য ট্র্যাডিশনাল কিওয়ার্ড রিসার্চ অতটা কাজ করে না, তবুও আর্টিকেলের মেটাডেটা ঠিক রাখা প্রয়োজন। কারণ ডিসকভার এলগরিদম কন্টেন্টের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য মেটা ট্যাগ এবং হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করে।
ট্রেন্ডিং টপিক নির্বাচন
ডিসকভারে ট্রাফিক পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ট্রেন্ডিং টপিকে কাজ করা। Google Trends ব্যবহার করে আপনি জানতে পারবেন বর্তমানে কোন বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ বেশি আলোচনা করছে। খেলাধুলা, টেকনোলজি, সরকারি চাকরি, বা বিনোদন জগতের তাজা খবরগুলো ডিসকভারে খুব ভালো পারফর্ম করে। তবে এমন টপিক বাছবেন যা আপনার ওয়েবসাইটের নিশের (Niche) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধরুন আপনার সাইটটি টেকনোলজি বিষয়ক, তাহলে হঠাৎ করে রান্নার রেসিপি দিলে সেটি ডিসকভারে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে কারণ এতে আপনার সাইটের টপিক্যাল অথরিটি নষ্ট হয়।
ইমোশনাল এবং ক্লিক-ওয়ার্দি টাইটেল
আপনার আর্টিকেলের টাইটেল বা শিরোনাম হলো দরজার মতো। টাইটেল যদি আকর্ষণীয় না হয়, কেউ ভেতরে ঢুকবে না। টাইটেল লেখার সময় ইউজারের কৌতূহল জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। তবে সাবধান, ক্লিকবেট করবেন না। অর্থাৎ টাইটেলে যা লিখবেন, আর্টিকেলের ভেতরে যেন সেই তথ্য থাকে। প্রশ্নবোধক টাইটেল বা “কিভাবে”, “কেন”, “গোপন কৌশল” – এই ধরণের শব্দগুলো টাইটেলে ব্যবহার করলে Click Through Rate (CTR) বাড়ে।
টাইটেলের দৈর্ঘ্য ৬০-৭০ ক্যারেক্টারের মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন। এতে মোবাইলের স্ক্রিনে পুরো টাইটেলটি দেখা যায়। টাইটেলের শুরুতে বা মাঝে মেইন কিওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করুন, তবে জোর করে কিওয়ার্ড ঢোকাবেন না। টাইটেলটি এমন হতে হবে যেন ইউজার মনে করে এই আর্টিকেলটি না পড়লে সে বড় কিছু মিস করবে।
গুগল ওয়েব স্টোরিজ (Web Stories) এর ব্যবহার
২০২৬ সালে Google Web Stories ডিসকভার ট্রাফিকের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েব স্টোরিজ হলো ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক স্টোরির মতো স্লাইড ভিত্তিক কন্টেন্ট। গুগল এখন ডিসকভার ফিডে ওয়েব স্টোরিজের জন্য আলাদা সেকশন রেখেছে। এটি বিশেষ করে নতুন সাইটগুলোর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
আপনি যদি প্রতিদিন ১-২টি করে হাই কোয়ালিটি ওয়েব স্টোরিজ পাবলিশ করেন, তবে খুব দ্রুত ডিসকভার থেকে ট্রাফিক পেতে শুরু করবেন। স্টোরিজ তৈরি করার সময় ভালো মানের ছবি, অল্প টেক্সট এবং কল টু অ্যাকশন বাটন ব্যবহার করুন যাতে ইউজার আপনার মূল আর্টিকেলে ভিজিট করে। ওয়েব স্টোরিজ খুব দ্রুত লোড হয় এবং মোবাইল স্ক্রিনের জন্য পারফেক্ট, তাই গুগল এটাকে খুব পছন্দ করে। ভিডিও কন্টেন্ট যুক্ত করতে পারলে ওয়েব স্টোরিজের এনগেজমেন্ট আরও বেড়ে যায়।
টেকনিক্যাল এসইও এবং গুগল নিউজ এপ্রুভাল
আপনার সাইটটি গুগল ডিসকভারে যাওয়ার জন্য টেকনিক্যালি সাউন্ড হতে হবে। আপনার সাইটে যদি Google News Approval থাকে, তবে ডিসকভারে যাওয়ার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। কারণ গুগল নিউজ এপ্রুভড সাইটগুলোকে গুগল ট্রাস্টেড সোর্স হিসেবে মনে করে। এটি কন্টেন্ট দ্রুত ইনডেক্স হতেও সাহায্য করে।
এছাড়া আপনার সাইটে স্কিমা মার্কআপ (Schema Markup) ঠিকঠাক আছে কিনা তা চেক করে নিন। বিশেষ করে Article Schema বা NewsArticle Schema ব্যবহার করলে গুগল আপনার কন্টেন্টের ধরণ সহজে বুঝতে পারে। রোবট ডট টিএক্সটি (robots.txt) ফাইলে কোনো ব্লক করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন এবং সাইটম্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখুন। আপনার সাইটের SSL সার্টিফিকেট বা HTTPS ঠিক আছে কিনা তাও দেখে নিন, কারণ সিকিউরিটি এখন বড় ইস্যু।
ডিসকভার অপ্টিমাইজেশনের চেকলিস্ট
আপনার সুবিধার্থে নিচে একটি চেকলিস্ট দেওয়া হলো যা আর্টিকেল পাবলিশ করার আগে মিলিয়ে নিবেন। এই তালিকাটি অনুসরণ করলে ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে।
| বিষয় | বিবরণ | করণীয় |
| ইমেজ সাইজ | থাম্বনেইল ইমেজের মাপ | ১২০০ পিক্সেল চওড়া (Width) হতে হবে। |
| টাইটেল | আর্টিকেলের শিরোনাম | কৌতূহল উদ্দীপক এবং ক্লিকবেট মুক্ত হতে হবে। |
| মোবাইল ফ্রেন্ডলি | রেস্পন্সিভ ডিজাইন | মোবাইল টেস্ট টুলে পাস করতে হবে। |
| কন্টেন্ট লেন্থ | আর্টিকেলের দৈর্ঘ্য | খুব ছোট নয়, অন্তত ৬০০-৮০০ শব্দের তথ্যবহুল হতে হবে। |
| পাবলিশ টাইম | সময় নির্বাচন | ইউজার যখন অ্যাক্টিভ থাকে তখন পাবলিশ করা। |
| গুগল পলিসি | নিয়মাবলী | গুগলের কন্টেন্ট পলিসি ভায়োলেট করা যাবে না। |
| স্কিমা মার্কআপ | টেকনিক্যাল এসইও | সঠিক স্কিমা ইমপ্লিমেন্ট করা আছে কিনা দেখা। |
কি কি কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন
অনেকে দ্রুত ট্রাফিক পাওয়ার লোভে কিছু ভুল কাজ করে বসেন যা সাইটের জন্য ক্ষতিকর। গুগল ডিসকভারে টিকে থাকতে হলে নিচের কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে:
১. অতিরিক্ত ক্লিকবেট: টাইটেলে লিখলেন এক আর ভেতরে পেলেন আরেক, এমন করলে গুগল আপনার সাইটকে ব্ল্যাকলিস্টেড করতে পারে।
২. এডাল্ট বা ভায়োলেন্ট কন্টেন্ট: গুগল এই ধরণের কন্টেন্টকে ডিসকভার ফিডে প্রোমোট করে না। এটি গুগলের পলিসির সম্পূর্ণ বিরোধী।
৩. কপিরাইট কন্টেন্ট: অন্যের লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে ডিসকভার ফিচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সব সময় নিজস্ব কন্টেন্ট ব্যবহারের চেষ্টা করুন।
৪. ভুল তথ্য ছড়ানো: স্বাস্থ্য বা অর্থ সম্পর্কিত সেনসিটিভ বিষয়ে ভুল তথ্য দিলে আপনার সাইটের E-E-A-T স্কোর কমে যাবে এবং সাইট পেনাল্টি খাবে।
সোশ্যাল সিগন্যাল এবং ইউজার এনগেজমেন্ট
যদিও ডিসকভার অর্গানিক, তবুও প্রাথমিক ধাক্কাটা দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ারিং কাজে আসতে পারে। আপনি যখন একটি পোস্ট পাবলিশ করবেন, সেটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শেয়ার করুন। সেখান থেকে যখন কিছু ট্রাফিক আসবে এবং তারা আপনার সাইটে সময় কাটাবে, তখন গুগল একটি পজিটিভ সিগন্যাল পাবে। গুগল তখন বুঝবে যে এই কন্টেন্টটি জনপ্রিয় হচ্ছে।
এছাড়া পুশ নোটিফিকেশন ব্যবহার করে আপনার রেগুলার ইউজারদের সাইটে ফিরিয়ে আনতে পারেন। রিটার্নিং ভিজিটর ডিসকভার এলগরিদমের জন্য একটি পজিটিভ সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে। কমেন্ট সেকশন চালু রাখুন এবং ইউজারদের কমেন্টের উত্তর দিন, এতে এনগেজমেন্ট বাড়ে। ইমেইল নিউজলেটারও একটি ভালো মাধ্যম হতে পারে ইউজারদের সাথে কানেক্টেড থাকার জন্য।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালে Google Discover Traffic পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়, আবার খুব সহজও নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আপনাকে নিয়মিত মানসম্মত কন্টেন্ট উপহার দিতে হবে এবং ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হবে। আপনি যদি উপরে উল্লিখিত নিয়মগুলো মেনে চলেন—হাই কোয়ালিটি ইমেজ ব্যবহার করেন, সঠিক টাইটেল নির্বাচন করেন এবং টেকনিক্যাল এসইও ঠিক রাখেন—তবে আপনার সাইটও খুব শীঘ্রই লক্ষ লক্ষ ভিজিটরের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, গুগলের মূল লক্ষ্য হলো ইউজারকে সঠিক তথ্য দেওয়া, তাই ইউজারকে খুশি রাখতে পারলে গুগল আপনাকে খুশি রাখবে। নিজের দক্ষতার ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং নিয়মিত কাজ করে যান, সাফল্য আসবেই।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
আমার ওয়েবসাইট নতুন, আমি কি ডিসকভার ট্রাফিক পাব?
হ্যাঁ, নতুন ওয়েবসাইটও ডিসকভারে যেতে পারে। তবে এর জন্য আপনাকে নিয়মিত হাই কোয়ালিটি এবং ট্রেন্ডিং টপিকে কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে এবং সাইটের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো ঠিক রাখতে হবে। নতুন সাইটের ক্ষেত্রে গুগল ওয়েব স্টোরিজ খুব ভালো কাজ করে।
গুগল ডিসকভারের জন্য দিনে কয়টি পোস্ট করা উচিত?
এর কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে নতুন অবস্থায় দিনে অন্তত ২-৩টি ভালো মানের আর্টিকেল পাবলিশ করা উচিত। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখানে মুখ্য বিষয়। তবে কোয়ালিটি খারাপ করে বেশি পোস্ট দেওয়া যাবে না।
ডিসকভার অপশনটি আমার সার্চ কনসোলে দেখাচ্ছে না কেন?
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার সাইট থেকে গুগল ডিসকভারে কোনো ইম্প্রেশন বা ক্লিক না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সার্চ কনসোলে ডিসকভার ট্যাবটি দেখাবে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রাফিক আসা শুরু হলে এটি অটোমেটিক চলে আসবে, এর জন্য আলাদা কোনো সেটিং অন করতে হয় না।
ওয়েব স্টোরিজ কি ডিসকভারের জন্য বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক নয়, তবে ওয়েব স্টোরিজ ডিসকভারে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এটি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এটি দ্রুত ট্রাফিক জেনারেট করতে সাহায্য করে।